পৃথিবীর সব মানুষকে মে’রে ফেলতে পারে ‘এআই’ কেন এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে?

পৃথিবীর সব মানুষকে মে’রে ফেলতে পারে ‘এআই’ কেন এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক :

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত উন্নত হচ্ছে। এর সুফল নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি ভবিষ্যতে এটি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই অধ্যাপক টবি ওয়ালশ এ বিষয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।

সম্প্রতি এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অ্যানথ্রপিকের জ্যেষ্ঠ কর্মী ইভান হুবিঙ্গারও আগামী এক দশকের মধ্যে এ ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলেছেন।

টবি ওয়ালশের মতে, ভবিষ্যতে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান এআই তৈরি হলে তার সক্ষমতা ও আচরণ আগেভাগে অনুমান করা কঠিন হতে পারে। কোনো এআইকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য দেওয়া হলে সেটি লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ‘পেপারক্লিপ’ উদাহরণ তুলে ধরা হয়। কোনো সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ তৈরির নির্দেশ দিলে সেটি পৃথিবীর সম্পদকে ওই কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারে। ওয়ালশের ভাষায়, “এআই মানবজাতিকে ঘৃণা করে না। তার কাছে আমরা কেবল এমন কিছু পরমাণুর সমষ্টি, যেগুলো পেপারক্লিপ তৈরিতে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়।”

এ ছাড়া উন্নত এআই জৈব অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করতে পারে, পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে।

এআই মানবজাতি ধ্বংস করার ৫টি সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হল-

১. সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইয়ের অজানা ক্ষমতা!

মানুষের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান এআই তৈরি হলে তার সিদ্ধান্ত ও সক্ষমতা মানুষ পুরোপুরি বুঝতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে নাও পারে। ফলে অপ্রত্যাশিত আচরণ থেকে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২. ‘পেপারক্লিপ’ পরিস্থিতি

এআইকে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য দিলে সে লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব না-ও দিতে পারে। যেমন, যত বেশি পেপারক্লিপ তৈরির নির্দেশ পেলে পৃথিবীর সম্পদ পর্যন্ত সে ওই কাজে ব্যবহার করতে পারে।

৩. জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি

উন্নত এআই জীবাণু, ভাইরাস বা অন্যান্য জৈব উপাদান নিয়ে গবেষণাকে সহজ করে দিতে পারে। এর অপব্যবহার হলে ভয়ংকর রোগ বা জৈব অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

৪. পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি

এআই যদি সামরিক ব্যবস্থায় ভুল তথ্য দেয়, ভুল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে বা পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রবেশ করে, তাহলে সংঘাত দ্রুত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

৫. মানুষের সমাজ ও পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি

এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো, ভুল তথ্যের বিস্তার, রাজনৈতিক বিভাজন এবং মানুষের মধ্যে কৃত্রিম সম্পর্কের বিস্তার বাড়তে পারে। এতে সামাজিক অস্থিরতা ও মানুষের পারস্পরিক আস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এই গবেষক ওয়ালশ মনে করেন, এআই নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে ঝুঁকিগুলো বুঝে যথাযথ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *