অনলাইন ডেস্ক :
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র বা ‘প্রেস কার্ড’ ঝুলিয়ে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচারের এক অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি প্রকাশ করে তথ্য বা ফুটেজ সংগ্রহ করার পর, তা নিজ প্রতিষ্ঠানে জমা না দিয়ে অনেকে নিজের ফেসবুক পেজ কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করছেন। উদ্দেশ্য কেবল ভিউ বাড়ানো এবং নিজস্ব মনিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রেস কার্ড ব্যবহার করার অর্থ হলো আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন; তাই সেই পরিচয় ভাঙিয়ে সংগৃহীত তথ্য ব্যক্তিগত চ্যানেলে ব্যবহার করা ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) এবং এক ধরনের প্রতারণা। এতে করে নিবন্ধিত মিডিয়া হাউসগুলো যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে, তেমনি মূল প্রতিষ্ঠানের কপিরাইট ও সম্পদ অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। পেশাদার সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত কন্টেন্ট ক্রিয়েশন দুটি একেবারেই ভিন্ন ক্ষেত্র—নিজস্ব চ্যানেলের প্রচার ও ব্যবসার কাজে প্রেস কার্ডের এই অসাধু ব্যবহার সাংবাদিকতার পেশাগত নৈতিকতা ও আইনি নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
সাংবাদিকতার কার্ডের অপব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে নিজস্ব স্বার্থ হাসিল এবং অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অপরাধে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে বা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কোনো সুবিধা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতারণা বা ‘ইম্পার্সনেশন’ (Impersonation) হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য ৪১৯ ধারায় ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৪২০ ধারায় ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া, অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিজস্ব চ্যানেলে ভিডিও প্রচার করলে তা কপিরাইট আইন ২০২৩-এর অধীনে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি হিসেবে গণ্য হয়, যার ফলে জেল ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে। অন্যদিকে, ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে বা কারো মানহানি ঘটালে ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত আইন ও দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় কারাদণ্ড ও মোটা অংকের জরিমানার মুখ পড়তে হতে পারে। একই সাথে, কোনো সংবেদনশীল সরকারি অফিসে কার্ডের দাদাগিরি দেখিয়ে অনধিকার প্রবেশ করলে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ কিংবা ট্রেসপাসিং আইনে জেল হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমও উক্ত কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।
