অনলাইন ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বছরের একটা বড় সময় পানির নিচে ডুবে থাকা জমি এতদিন কৃষকদের কাছে ছিল অনেকটা অকেজো সম্পদের মতো। সেই চিত্র বদলে দিচ্ছে ভাসমান ডালি পদ্ধতির সবজি চাষ। বাঁশের মাচার ওপর গড়ে তোলা এই কাঠামোয় লাউ, চালকুমড়া, শসা, করলার মতো সবজি ফলিয়ে কৃষকরা এখন বর্ষার জলাবদ্ধতাকেও সম্ভাবনায় রূপ দিচ্ছেন।
নবীনগরের হাওর-অধ্যুষিত প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি বর্ষায় দীর্ঘ সময় তলিয়ে থাকে, যা এতদিন চাষাবাদের বাইরে থেকে যেত। কৃষি বিভাগের উদ্যোগে গত দুই বছরে ইব্রাহিমপুর, নাটঘর, রছুল্লাবাদসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়েছে, চলতি মৌসুমে যার পরিধি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে। সরকারি প্রকল্পের আওতায় দুই শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বর্ষায় যখন বাজারে সবজির সংকট দেখা দেয়, ঠিক তখনই ফলন পাওয়া যায়—ফলে দামও ভালো মেলে। এক মৌসুম শেষে একই কাঠামো ফের ব্যবহার করা যায় বলে খরচ কমে আসে ধীরে ধীরে, আর সেচ বা রাসায়নিকের ব্যবহারও লাগে কম।
কৃষক এমরান মিয়া মাত্র ১৫ শতাংশ জমির লাউ বিক্রি করেই তুলেছেন ১৫ হাজার টাকা, ফলন বাকি আরও দুই মাস। অন্যদিকে ইসমাইল মিয়া দুই বছর ধরে এই পদ্ধতিতে চাষ করে এলাকায় হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার উৎস—তাঁকে দেখে আগ্রহী হচ্ছেন প্রতিবেশী কৃষকরাও। আবার সুজন মিয়া ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারই প্রথম শুরু করেছেন, এবং শাক-সবজি বিক্রি করে ইতিমধ্যে আয় করেছেন প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
জানা যায়, একসময়ের ‘অভিশপ্ত’ জলাবদ্ধতাই নবীনগরের কৃষকদের কাছে হয়ে উঠছে নতুন সম্ভাবনার নাম।
