অনলাইন ডেস্ক :
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন মুখে পুরে নেওয়া— এই অভ্যাসটি অনেকের কাছেই বহু পুরনো এক রুটিন। রান্নাঘরের এই চেনা মশলাটিকে ঘিরে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা থাকলেও, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে বাস্তবসম্মত উপকারিতাও কম নেই।
রসুনের মূল আকর্ষণ এর ভেতরে থাকা অ্যালিসিনসহ একাধিক সক্রিয় যৌগ, যেগুলোতে রয়েছে অক্সিডেশন-প্রতিরোধী ও জীবাণুনাশক ক্ষমতা। এই কারণেই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত রসুন রাখলে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা মজবুত হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। এর সালফারযুক্ত যৌগগুলো কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে বলেও জানা যাচ্ছে।
হজমের ক্ষেত্রেও রসুনের ভূমিকা আছে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যের কারণে খালি পেটে খেলে অনেকের হজমজনিত অস্বস্তি কমতে পারে। তবে যাঁদের আগে থেকেই অম্বল বা পাকস্থলীর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে— কাঁচা রসুন বরং অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও রসুনের একটি সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। রসুনের অ্যালিসিন রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে, আর নিয়মিত সেবনে রক্তচাপ এবং ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা কমার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। এই কারণে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে রসুনকে জায়গা দেওয়া যেতেই পারে।
তবে রসুন খেলেই শরীরের যাবতীয় “টক্সিন” নিমেষে বেরিয়ে যায়— এমন প্রচলিত ধারণার তেমন জোরালো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনের আসল দায়িত্ব পালন করে লিভার ও কিডনি। রসুন সেই প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে, কিন্তু একক কোনো “ডিটক্স” সমাধান নয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও একই কথা প্রযোজ্য। রসুনের কিছু যৌগ বিপাকক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে ঠিকই, কিন্তু শুধু সকালে এক কোয়া রসুন খেয়ে মেদ ঝরে যাবে— এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ওজন কমাতে চাইলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম আর নিয়মিত শরীরচর্চাই থেকে যায় আসল চাবিকাঠি।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঁচা রসুন সবার শরীরে সমানভাবে সহ্য হয় না। বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস, পেট জ্বালা বা বমিভাবের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই কারও অস্বস্তি হলে জোর করে এই অভ্যাস চালিয়ে না গিয়ে, রসুনকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প না ভেবে বরং স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবেই পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
